Insight Desk
প্রকাশ : Aug 11, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধে ভোট নিয়ে অনিশ্চয়তায় ৪৮% মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী সংসদ নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন, সেই বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি ৪৮ শতাংশেরও বেশি মানুষ। অন্যদিকে জরিপ কাকে ভোট দিতে চায় তা বলতে রাজি হয়নি ১৪ দশমিক চার শতাংশ মানুষ।

ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা বিআইজিডি’র জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কাজের মূল্যায়ন, সংস্কার, নির্বাচন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা নিয়ে’ জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জরিপের ফল তুলে ধরেন বিআইজিডির ফেলো অব প্র্যাক্‌টিস সৈয়দা সেলিনা আজিজ। তিনি জানান, জরিপের জন্য গ্রাম ও শহরের নানা শ্রেণি-পেশার ৫ হাজার ৪৮৯ জন মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের ৫৩ শতাংশ পুরুষ, ৪৭ শতাংশ নারী; ৭৩ শতাংশ গ্রামের ও ২৭ শতাংশ শহরের। জরিপে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, চলমান সমস্যা, সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে টেলিফোনে প্রশ্ন করে মতামত জানতে চাওয়া হয়। গত ১ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত সময়ে এই জরিপ চালানো হয়। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে , অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর ভোট নিয়ে দলটির সমর্থকদের মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে ভোট দিলে তা বিতর্কিত ছাড়া আর কিছুই হবে না। কারণ দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষই ভোট নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। 

বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে, এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল বিআইজিডির জরিপে। এর উত্তরে ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন দেশ রাজনৈতিকভাবে সঠিক পথে আছে আর ৪৫ শতাংশ মানুষের মত হলো দেশ অর্থনৈতিকভাবে সঠিক পথে আছে। গত বছরের অক্টোবরে ৫৬ শতাংশ মানুষ বলেছিলেন দেশ রাজনৈতিকভাবে সঠিক পথে আছে আর ৪৩ শতাংশ বলেছিলেন অর্থনৈতিকভাবে সঠিক পথে আছে। অর্থাৎ দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে আশাবাদ সামান্য বেড়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তা কমেছে।

জরিপে বলা হয়, যারা ভোট দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের মধ্যে ১২ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে, ১০ দশমিক চার শতাংশ মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে, সাত দশমিক তিন শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগকে এবং দুই দশমিক আট শতাংশ মানুষ এনসিপিকে ভোট দিতে চান বলে জানিয়েছেন।

এখানেও সরকারের সমর্থনে গঠিত কিংসপার্টি হিসেবে খ্যাত এনসিপির চেয়ে জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ। বিশ্লেষকদের মতে, দলটির চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপকর্মের কারণে জনসমর্থন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর দলের সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়া স্বাভাবিক। এ অবস্থায় নির্বাচন হলে তা গণতান্ত্রিক স্বীকৃতি পাবে না এবং তা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করবে। ভোটারদের এত বিশাল অংশ যখন সিদ্ধান্তহীন, তখন সরকারের উচিত একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন পরিবেশ সৃষ্টি করা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কিশোরগঞ্জে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা: জামায়াত কর্মীর বিরুদ্

1

১২ ও ৪ বছর আগে প্রয়াত দুই আওয়ামী লীগ নেতাকেও মামলার আসামি কর

2

অব্যবস্থাপনায় আলু রপ্তানির প্রণোদনার ৭.৫৪ কোটি টাকা হাওয়া

3

দুদকের অনুসন্ধানে ১০০ কোটির প্রকল্প ও ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব

4

❝আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, যখন দেখি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে

5

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান হামলা পাল্টা হামলা

6

২০২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাই অকৃতকার্য: ভেঙে পড়ছে দেশের শিক্ষ

7

হোলি আর্টিজান হামলা ও ৯ বছর পর জঙ্গি নিয়ে বিতর্ক: সরকার কি চ

8

আদর্শের বদলে আসনের রাজনীতি: এনসিপির ক্ষমতা দখলের অক্ষমতা উন্

9

বাংলাদেশ-পাকিস্তান এক করার মিশন নিয়ে ঢাকায় পাকিস্তানের পররাষ

10

সেনাবাহিনীকে দুর্বল করতে ইউনূস ব্রিগেডের নীলনকশা

11

বাংলাদেশের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বন্ধ করল ভারত, কার্যকর হলো

12

খামেনি নিহত: ইরানে নেতৃত্বে আলী লারিজানি

13

ইউনূসে হতাশ বাংলাদেশ, জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার

14

মৌলবাদের ছায়া সংস্কৃতিতে: চারুকলা থেকে গেন্ডারিয়া পর্যন্ত বা

15

তিন বাহিনীকে নিয়ে জাতির সঙ্গে ইউনুসের প্রেস উইংয়ের মিথ্যাচ

16

এক সময়ের নোবেলজয়ী ‌‘মানবতার মুখ’ এখন বাংলাদেশের নতুন স্বৈরশা

17

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট বিতর্ক আদালতে চ্যালেঞ্জ

18

কোটা নয়, প্রতারণা! অযোগ্য এনসিপি নেতার লাখ টাকার চাকরি

19

সাংবাদিকদের সঙ্গে অভদ্র আচরণে সমালোচনার মুখে ডাকসু নেত্রী রা

20